কথাসাহিত্যিক সিরাজুল ইসলামের অন্বেষণ মানবমনের অতল। সকল বেদনা বা সংগ্রামের মধ্যে অদম্য প্রাণশক্তির জয়ই শাব্দিক রেখা ও লেখায় আঁকেন তিনি। আবছায়া উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে মূলত আশার মনােজগৎকে কেন্দ্র করে। বাবার মৃত্যুর পরে একটু একটু করে অসুস্থ হয়ে পড়ে আশা। নিজের অসুস্থতা, মায়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা দূরত্ব আর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ মিলিয়ে তার উপলব্ধি হয়— এই সমাজে একজন একা মেয়ের পক্ষে সম্মানের সাথে টিকে থাকা কঠিন। রােগের তীব্রতা বাড়লে ফনী ডাক্তার কি আন্দাজ করতে পারে আশার প্রকৃত অসুস্থতা? তারই পরামর্শক্রমে আশা ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মফসসল শহর গাইবান্ধার পাট চুকিয়ে আশা চলে আসে ঢাকায় কামরান ও রুবিনার সংসারে। ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে উপন্যাসের কাহিনি। হয়তাে আশার অসুখকে ঔপন্যাসিক রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন এ উপন্যাসে। প্রকৃতপক্ষে, এ অসুখ আমাদের সমাজে, রাজনীতিতে, পরিবারে, সর্বক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে। আবছায়া নামের মতােই অস্পষ্ট রয়ে যায় উপন্যাসের চরিত্রগুলির চাওয়া-পাওয়াগুলাে। প্রত্যেকটি চরিত্র যেন নিজের চারপাশে একটা দেয়াল তুলে রেখেছে। তারা প্রত্যেকেই বহন করে চলেছে বর্তমানের ঘুণধরা সমাজ-ব্যবস্থার ভার।