আবৃত্তি নামের শিল্প মাধ্যমটি আধুনিক কালের সৃষ্টি বলে দাবি করা হলেও মাধ্যমটি সুপ্রাচীন। আর্যযুগে যে চৌষট্রি কলার চর্চা করা হতো তার ভেতর দুটি কলার নাম যাথাক্রমে সংপাঠ্য ও মানসি কাব্য ক্রিয়া। সংপাঠ্য বলতে বুঝি বিষয়কে সম্যকভাবে পাঠ করা। নিশ্চয় তা পাঠ করা হতো শ্রোতার সামনে তাকে জানাবার জন্য বা তার চিত্তে রসোপলব্ধি সৃষ্টির জন্য। মানসী কাব্যক্রিয়ার মধ্যেও আবৃত্তির ধর্ম বর্তমান। সংস্কৃতে এর টিকায় বলা হয়েছে যে, মাত্রা, সংযোগ, অসংযোগ ছন্দ, বিন্যাস ইত্যাদি সঠিকভাবে অনুসরণ করে সর্বসমক্ষে পাঠ করাকে মানসী কাব্যক্রিয়া বলে। একে আবৃত্তির নামান্তর হিসেবে গণ্য করা যায়। আমাদের পাঁচালি পাঠ, কথকতা ইত্যাদির আসর বস্তত পক্ষে আবৃত্তিরই আসর। এই শিষ্টরীতি লোকরঞ্জিত ধারার ভেতর দিয়ে সমাজের উচ্চ সব তলাকে অতিরঞ্জিত করেছে। প্রতি রাজসভাতেই কাব্যপাঠের মজলিস বসত। এ কাব্য পাঠ ছিল আবৃত্তির পূর্বস্বরূপ।