১৯৪০ সালে বইটির প্রথম প্রকাশ, পরবর্তীতে ইংরেজি ভাষাতেও অনূদিত হয়। উপন্যাসটি পড়ে ভালো তো লাগবেই, তার সাথে আপনার কিছু অপ্রচলিত বাগধারাও রিভিশন হয়ে যাবে। এই উপন্যাস আপনাকে মনে করিয়ে দিবে সেগুলোর বেশ কয়েকটাই যেমন- ব্যাঙের আধুলি, চক্ষুদান করা, উন পাঁজুরে এমনই খুব সুন্দর সুন্দর কিছু বাগধারার প্রয়োগ, লেখক তাঁর লেখনিতে সংযুক্ত করেছেন। তাছাড়া বইটি পড়ার সময় মনে হচ্ছিল একটা বাক্যেও কোথাও বাহুল্যতা নেই, যেখানে যেমনটি হবার কথা ছিল সেখানে ঠিক তেমনটাই হয়েছে। সরল ভালোমানুষ হাজারীর ভাবনাগুলো, তার জীবনদর্শন, তার স্বপ্নগুলো পাঠকের মন ছুঁয়ে যেতে বাধ্য। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসাধারণ এক সৃষ্টিকর্ম এই উপন্যাসটি। পড়ার সময় স্বপ্ন, রাগ, খুশি, আশা, কষ্ট, বিরক্ত বিভিন্ন অনুভূতি হয়েছে। উপন্যাসটি বারবার পরার মতো। আমাদের জীবনপ্রবাহকে ধরে রেখে বিচিত্র মুন্সিয়ানায় জাদুর শব্দজাল বুনে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের দেন এক নিজস্ব দর্পণ, অনুপ্রেরণা সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার। আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসটি সব বয়সী পাঠকদের পাঠ্য উপযোগী এ গ্রাম মুখর দিনগুলো।