আমার প্রিয় গল্প ভূমিকা নিজের লেখা থেকে বাছাই করা খুব শক্ত কাজ। এর আগে আমার যে-কটি নির্বাচিত সংগ্রহ বেরিয়েছে, তার সবগুলিই নির্বাচন করে দিয়েছেন আমার কোনো কোনো অনুজ বন্ধু, আমি কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব দেখাইনি। আমি কবিতা লিখতে লিখতে গদ্যের জগতে এসেছিলাম। কবিতা রচনার ফাঁকে ফাঁকে দুটি একটি ছোটোগল্প লিখে গদ্যের সীমানায় আমার প্রথম পদক্ষেপ। আমাদের অল্প বয়েসে বাংলায় উপন্যাসের চেয়েও ছোটোগল্পে বেশি রমরমা ছিল, পত্র-পত্রিকায় ছোটো- গল্পের সমাদর ছিল। ‘দেশ' পত্রিকায় শারদীয় সংখ্যায় একটিও উপন্যাস ছাপা হত না, সমস্ত প্রখ্যাত লেখকরাই মন প্রাণ দিয়ে ছোটোগল্প লিখতেন। আজও বাংলা ছোটোগল্প নিয়ে বিশ্বসাহিত্যে গর্ব করা যায়। নিজের রচনা নির্বাচন করতে গেলে সেগুলি আবার পড়তে হয়, পড়তে পড়তে নিজের দুর্বলতাগুলি চোখে পড়ে। মনে হয়, সব গল্পই আবার নতুন করে লেখা উচিত, কিন্তু তা তো সম্ভব নয়! আমি নিজের লেখার ভক্ত নই একেবারেই। আমার কোনো লেখাই আমার প্রিয় নয়। তবে কোনো কোনো লেখার সঙ্গে কিছুটা মায়া জড়িয়ে আছে, একথা ঠিক। কোনো বিশেষ গল্পটি লেখার সময়টা মনে পড়ে, গল্পের পরিবেশ ও বাস্তব চরিত্রগুলির কথা চোখে ভাসে। একেবারে বানানো কোনো গল্প আমি লিখতে পারি না, নিজের জীবনের কিছু না কিছু অংশ তাতে মিশে থাকে, সুতরাং এই সংকলনের গল্পগুলিকে আমার টুকরো টুকরো জীবন কাহিনীও বলা যায় ।