ঘরের মেঝেতে একটা ভাজ করা কাগজের টুকরো, মনে হচ্ছে একটা উড়ো চিঠি। দরজার খুব কাছেই, তার মানে কেউ দরজার ফাক থেকে ভেতরে ঠেলে দিয়েছে। কিন্তু এমন আধনিক যুগে চিঠি কেনো দিলো? অবশ্য আধুনিক ভাবে আমার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না। চিঠিটা তুলবো না, আদেও কি ওটা চিঠি? ঘরের সব বাতি নিভিয়ে দিয়েছি, শুধু পড়পা টেবিলের ল্যাম্প জ্বলছে। এই ল্যাম্পটার একটা বিশেষত্ব আছে, এটা কখনো নষ্ট হয়নি। ল্যাম্পটা নাকি আমার দাদার, বাবা নাকি বলতেন এই ল্যাম্প তাদের বংশের প্রতিক। টেবিল ল্যাম্প বংশের প্রকিত, শুনলেই হাসি পাই। তবে একটা কথা মানতে হবে, এটা যদি দাদার নাও হয় তবুও এটা অসাধারন একটা টেবিল ল্যাম্প। আমি ছোট বেলা থেকে দেখছি এটা জ্বলছে, এখনো অব্দি জ্বলেই চলেছে। আমার ধারনা আমার বয়সের থেকে এটার বয়স বেশি। সে যেনো অমৃত করেছে পান। হা হা হা . . টেবিল ল্যাম্পের হলুদ আলোতে মেঝেতে পড়ে থাকা কাগজের টুকরো টাকে সোনার টুকরো মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে ওটা কোনো সাধারন কাগজ না, স্বর্ণের কাগজ। কাগজটা ছুয়ে দেখার লোভ সামলানো যাচ্ছে না। এবার ওটা তুলেই দেখা যাক, ওটা চিঠি কিনা সেটাও দেখা হবে আর লোভেকেও প্রশ্রয় দেওয়া হবে।