আহমেদ মাহিরের কবিতার পাণ্ডুলিপি হাতে নিয়ে বসে আছি! নীরেন্দ্রনাথ এর একটা লাইন মাথায় ঘুরছে- “এ যেন অরণ্য প্রেত-রাত্রির শিয়রে এক মুঠো জ্যোৎস্নার অভয়।” কবিরা কালের সাক্ষী, আকালেরও! কেউ কেউ ত্রিকালের! আহমেদ মাহিরের মতো কবিরা ছাড়িয়ে যায় কালের সীমানা। সীমাবদ্ধ থাকে না প্রেম প্রকৃতি কিম্বা দৈনন্দিন জীবনের অগভীর অন্তর্জালে। আমাদের সময়টা বড়ই অদ্ভুত- একদিকে যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ দূরের মানুষকে টানছে কাছে, দূরের পৃথিবীকে আনছে হাতের মুঠোয়, অন্যদিকে কাছের সবকিছু চলে যাচ্ছে না-ছোঁয়ার অভিলাষে হারিয়ে। কবিতায় আহমেদ মাহির মাটি কামড়ে পড়ে আছেন, প্রতিটি শব্দে- বুননে- আছে যন্ত্রণা, আছে হাহাকার- “সিলিং ফ্যানের ক্লান্তি ফুরোয়না আর পলেস্তারার সাথে ফুরিয়েছে পুরনো সময়ের ঘ্রাণ।” আমাদের প্রত্যেকের ভিতরেই বাস করেন একজন জীবনানন্দ, একজন সুভাষ মুখার্জী, বুনো ফুল লতাপাতার আহ্লাদের সাথে যুক্ত হয় ‘গাড় লাল রঙের ইটের দেয়াল’। ‘পোড়ামাটির গন্ধ’ যেমন টানে, টানে শহুরে বৃষ্টি, তেমনি টানে ‘নিস্তরঙ্গতার রোদ্দুর’। কবিতায় মাহির আমার কথা লিখছে, আমাদের কথা লিখছে, আমাদের সময়ের প্রতিনিধি হয়ে! সমস্ত হাহাকার, যন্ত্রণা, আর দীর্ঘশ্বাসের পরেও কোন এক প্রশান্তির ছকে আহমেদ মাহির লিখছে। আহমেদ মাহির লিখুক- “শেকড় কাটা পড়ে গেছে আরও আগে সেভাবেই দাঁড়িয়ে ছিলাম বহুকাল তারপরেই কোনদিন লুটিয়ে পড়ি স্বেচ্ছায়- আমি মানুষ নই, গাছের মতন কোনো!” কাজী মামুন