নিজের সত্তার সঙ্গে সম্পর্কহীন ভাবনা ও অনুভব কি মানুষের নিজের কাছেই স্পষ্ট হয় সবসময়? সত্তার সঙ্গে সম্পর্কহীন আর সম্পর্ক যুক্ত জীবনবোধ ভিন্ন ভিন্ন রূপে আসে আমাদের কাছে। বস্তুুর ওপর আত্মার প্রাধান্য কিভাবে আত্মত্যাগের সাথে সম্পর্কিত, সে আত্মত্যাগেই যে প্রাপ্তি সীমাহীন তা কি আমরা অনুভব করি? প্রতিটি মানুষ স্রষ্টার নিখুঁত সৃষ্টি হওয়ায় দুটো আত্মার টানে মানুষের চিন্তা ও কর্মে দেহ ও মননের সমন্বয়ে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে অবদান রাখে। মানুষসহ সব প্রাণির প্রতিটি আলিঙ্গন শুধু দেহ নয়, আত্মার সাথে আত্মার সংযোগ ঘটায়। তাই প্রয়োজন আত্মার স্বরূপ সন্ধান, যে আত্মা স্রষ্টার স্বরুপ হয়ে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত। প্রকৃতির কল্পনা মানুষের চিন্তার অতীত বলেই তা প্রাণীকে চলমান রাখে, প্রকৃতি মানুষ তথা জীবের প্রকৃত আশ্রয়। মানব জীবনের অসংখ্য জ্ঞানের ভরকেন্দ্রকে ভিত্তি করেই এগিয়ে যায় সমাজ, রাষ্ট্র ও পৃথিবী। বিনির্মাণ হয় সভ্যতা। মানুষের এই অন্তর্গত যাত্রাপথের সন্ধানই বইয়ের মূল কথা। এসব কথাই উঠে এসেছে কখনো কবিতায়। কখনো লেখকের নিজের সঙ্গে নিজেরই আলাপচারিতায়। ১৫ টি আলাপন আর ৩০ টি কবিতা নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘আত্মারসংলাপ’।