"বাইশে শ্রাবণ" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: সবাই রবীন্দ্রনাথকে দেবতা ভেবেছেন বরাবর। আড়ালে একলা বাঁচেন যে ক্ষত-বিক্ষত বাউল মানুষটি, তাকে অনুভব করেছেন আর ক’জন? অসুস্থ বিশ্বকবির জীবনের শেষ দিনগুলি কম করুণ নয়। প্রভাতরঞ্জন রায় হেরে-যাওয়া মানুষ, ব্যর্থ সাহিত্যিক। মেয়ে বিদিশাকে তিনি চোখের জলে লিখে জানান রবীন্দ্র-জীবনের অস্তগামী আলাের কাহিনি। ‘বাইশে শ্রাবণ' উপন্যাসে একদিকে রবীন্দ্রনাথের শেষযাত্রায় উন্মত্ত জনতার দিকে ছুটে যায় শিরা কেটে-ফেলা এক বােকা মেয়ের কান্না, অন্যদিকে শ্রমিক পিতার ভস্মাবৃত অগ্নি চাপা গর্জন তােলে “বিপ্লব দীর্ঘজীবী হােক”। রবীন্দ্রনাথের চিতাভস্ম যখন পৌঁছয় বােলপুরে, পথের দু’পাশে জোড়হাতে দাঁড়িয়ে মানুষ, আকাশে অজস্র তারা বেদনা শব্দটির পাশে হৃদয় শব্দটি যেন চুপ করে বসে আছে চরাচরে।