ভাওয়াইয়া গানের মূল পর্বে পৌঁছানোর আগে সেই এলাকা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। সেই সংগে তার শাসক, রাজ্য, ভাষা সম্পর্কে জানা একান্ত জরুরী। কামরূপ, কোচবিহার যাই বলি না কেন এই কামরূপ রাজ্য পৌরাণিক যুগে পরিচিত ছিল 'প্রাগজ্যোতিষ' নামে। যোগিনীতন্ত্র অনুসারে যদি ধরা হয়, তবে বহুপূর্বে এর সীমারেখা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। রামায়ণ, মহাভারত, হরিবংশ, বায়ুপুরাণ, মৎস্যপুরাণ, শ্রীমদভাগবত, বৃহৎসংহিতা গ্রন্থে প্রাগজ্যোতিষ নামের উল্লেখ আছে। এই প্রাগজ্যোতিষই পরবর্তী সময় কামরূপ, কামতা, তারপর কোচবিহার নামে খ্যাত হয়েছে। কামরূপ রাজ্য চারটি 'পীঠে' বিভক্ত ছিল। কামপীঠ, রত্নপীঠ, সুবর্ণপীঠ ও সৌমারপীঠ। বর্তমান কোচবিহার একসময়ে ছিল কামপীঠ ও রত্নপীঠের অন্তর্গত। নীলাম্বর খেন বা ক্ষেণবংশের প্রভাবশালী রাজা ছিলেন। জানা যায়, ক্ষেণবংশের রাজারাই কামরূপ থেকে রত্নপীঠকে পৃথক করে কামতা রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। 'কামদা' বা কামতা দেবী বা 'গোসানীদেবী' ছিলেন তাঁদের কুলদেবী। তাই রাজ্যের নাম হয় কামতা এবং রাজধানীর নাম হয় কামতাপুর।