"বারোয়ারি বাসা" বই এর ফ্ল্যাপের লেখা সে অনেকদিন আগেকার কথা। তখনও জোব চার্নক গঙ্গার ধারে জলা-জঙ্গলের মাটিতে পা রাখেননি; তখনই হরিহর বসাকের তাঁতের কাপড়-চোপড় জাহাজে চড়ে পৌঁছে যেত চীন-জাপানের বাজারে। হরিহরের একমাত্র পুত্র রামহরি বসাকের আমলে ওদের তৈরি কাপড়-চোপড় ভেসে গেল শ্যামদেশ-বর্মা- জাভা-সুমাত্রার বাজারে। এমন কি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে এই ধনী বসাকদের তৈরি কাপড়-চোপড় প্রাচ্য দেশের বাজার দখলে রাখে। এদিকে কোম্পানির আমলে কলকাতা তখন নিত্য নতুনভাবে সেজে উঠছে। ওদিকে কেল্লায় বাস করছে পাঁচ হাজার সিপাহী আর অফিসাররা। এদের দৈনিক খাবার-দাবার জোগান দেবার কাজ বড় অফিসারদের অনুরোধে রামহরিই শুরু করেন। রামহরি দু'হাতে দান করেন ধর্মকর্মে আর দুঃখী আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশিদের। সেই সঙ্গে আহিরীটোলায় তৈরি করেন বিরাট তিনতলা বাড়ি । তারপর একদিন হঠাৎ কেল্লার মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রামহরির মৃত্যু হয় । রামহরির পুত্র হরেকৃষ্ণ নির্ভেজাল কুলাঙ্গার। যার শিক্ষা নেই, ধৈর্য নেই, নিষ্ঠা নেই, সর্বোপরি যে চরিত্রহীন, সে কি কোনকালে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা করতে পারে? ইতিহাসের পাতা থেকে বিদায় হল বসাক পরিবারের নাম। তারপর? আহিরীটোলার তিনতলার বাড়িতে হাত বদল হতে হতে এখন কত রং-বে-রং-এর মানুষের বাস। এইসব মানুষদের বিচিত্র কাহিনী নিয়েই এই উপন্যাস।