কবিতার ঝুলবারান্দায় সপ্রতিভ ছিলেন আরিয়ান সিদ্দিক। লিখেছেন ‘তুমি চলে গেছো বলে’ ও ‘নতুন পৃথিবীর খোঁজে’ শিরোনামে দুটি কাব্যগ্রন্থ। কাব্যবলয়ে তার পদচারণা ছন্দময়। নতুন ভাবনা ও আঙ্গিকে লিখছেন এখনো। প্রতিনিয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে প্রতিটি সৃষ্টিতেই। হঠাৎ করেই গদ্যরচনায় হাত দিলেন কেন সে প্রশ্নে না যাই, তবে 'ভাগ্যের লীলাখেলা' আরিয়ান সিদ্দিকের সৃষ্টিশীলতার আরেকটি প্রমাণ তা নিশ্চিত বলা যায়। কবিতায় যা প্রকাশযোগ্য নয়, তা-ই হয়তো গদ্যে রূপদানের প্রয়াস পেয়েছেন। 'ভাগ্যের লীলাখেলা' উপন্যাসের কাহিনী ও চরিত্র কাল্পনিক হলেও তা বাস্তবতাকে ছুঁয়ে গেছে সবটুকুই। সামাজিক অবক্ষয় এবং নিয়তি পাশাপাশি হেঁটে অবশেষে একসূত্রে বাঁধা পড়েছে। অদৃষ্ট মানুষের সহজাত পরিণতি, তাই উপন্যাসের সমাপ্তিও হয়েছে দীর্ঘশ্বাসে। একটা বেদনার সুর ধ্বনিত হয়েছে কোথাও, কিন্তু তা অনিবার্য এবং স্বীকৃত। উপন্যাসের কোথাও কোথাও ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে, প্রথম গদ্যরচনার ক্ষেত্রে যা খুব স্বাভাবিক। তিনি আরো কুশলী হবেন সাহিত্যের এ' শাখায়। 'ভাগ্যের লীলাখেলা' উপন্যাসটির পাঠকপ্রিয়তা কামনা করছি। শুভেচ্ছান্তে-- রাববানী সরকার কবি ও ঔপন্যাসিক শাকপালা, বগুড়া।