ভাতের দেশের চিনিগুড়া মানুষ — বিপ্লব সাইফুল | বইপোকা
ভাত, ক্ষুধা এবং ক্ষুধার দহন-দুঃখকে বিপ্লব সাইফুল অনুভবের কোন গহীনে উপলব্ধি করেছেন, বয়ান করেছেন কোন তরিকায়— এ কী পরাবাস্তব, বাস্তব না জাদুবাস্তবতা? ক্ষুধা কতটা আঁচ পেলে— দুঃখ আঁকতে গেলে সব হয়ে যায় ভাতের দানা! অনটন আসলেই কি জীবনের সমস্ত স্বপ্ন, বর্ণিল অতীত, সেই অতীতের ঘর-গৃহস্থ, সব— সবকিছুকে প্রেমিকার একপেশে আধিপত্যের কাছেও নতজানু করে দেয়? কবি যখন বলেন— 'আমার যতটা অবেলা, অনাহার/ ক্লান্ত মালগাড়ির মতো একদিন—/ ফিরে এসে দেখাবো তোমাদের ভাতের দেশে।/ আমাকে চিনতে পারবে?/ অথবা ' সেদিন সেই ভাতকে মাখিয়ে খাওয়াবো চোখের নুনে/ নুন ভাতের স্বাদে আপনাদের যখন গলা আটকে যাবে/ আমি তখন শুনাবো আমার অনাহারের দিনগুলির কথা/ শুকিয়ে যাওয়া পাকস্থলীর করুণ হাহাকারের কথা/ শেষ দৃশ্যে আমি কেবল ভাতকেই ভগবান মেনে/ লাথি মেরে উলটে দেবো যাবতীয় সম্পর্কের মিথ্যা কথার কথা!' ভাত, ক্ষুধা আর ক্ষুধার দুঃখকে বিপ্লব সাইফুল শব্দে-বাক্যে-স্বপ্নে-জাদুতে-বাস্তবে আর অলংকারে অনুবাদ করেছেন তার 'ভাতের দেশের চিনিগুড়া মানুষ' কাব্যগ্রন্থে।