সিরাজ উদ্দিন শিরুলের গানের ভাবার্থ পড়ে তাঁর বৈষ্ণব এবং সুফি চেতনার যুগপৎ পরিচয় পাওয়া যায়। এর ভেতর দিয়ে প্রতিফলিত হয় তাঁর অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার পরিচয়, যা এই সমাজের জন্য খুবই দরকারি। গানের মাধ্যমে বাঙালির লোকায়ত চেতনার এই যে প্রকাশ, তা কেবল একজন সমকালীন ছড়াকার হিসেবেই নয়, একজন সমাজচেতন মানুষ হিসেবে সামাজিক দায় হিসেবে পালন করছেন সিরাজ উদ্দিন শিরুল। গানের কথার শুদ্ধ সাহিত্যিক প্রকরণ হিসেবে বিবেচনা করলে হবে না, তার রচনাকে বিবেচনা করতে হবে, লোকগানের ভাবধারা হিসেবে। সুরের দিকটি লক্ষ্য করলে কিংবা সুরারোপিত গানটি লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে যে শিরুলের দক্ষতা প্রশংসনীয়। সাহিত্যপাঠ হিসেবে নয়, শ্রুতি হিসেবে এর উৎকর্ষ বিচার করবে শ্রোতাকুল। আশা করি শিরুলের গান শ্রোতাপ্রিয় হবে। জয়তু সিরাজ উদ্দিন শিরুল।