বলতে গেলে সেই ১৯৭৪ সাল হত দেশ ছাড়া। প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন দিয়ে শুরু। কৈশোর ও যৌবনের একে একে ১২টা বছর পার করেছি দেশটায়। শিখেছি তাদের ভাষা। মিশেছি ভিন্ন মতের একটা সমাজে। সে পর্ব সমাপ্ত করে মাইগ্রেট করেছি অস্ট্রেলিয়ায়। তাসমান পাড়ের জীবন খুব একটা লম্বা হয়নি। ৫ বছর পর প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে আস্তানা গেড়েছি আমেরিকার বুনো পশ্চিমে। তাও আজ প্রায় ১৬ বছর। মাঝে নিউ ইয়র্কের ৬টা বছর ছিল নিজেকে নতুন করে চেনার সময়। প্রফেশনাল ও ব্যক্তিগত জীবনকে এক সুতোয় গেঁথে টানা হেঁচড়ার পর উপলদ্বি করতে পেরেছি আসলে এক জায়গায় থেমে যাওয়ার মানুষ আমি নই। দেশ-বিদেশ আমাকে টানে। ঘুরে বেড়ানো আমার রক্তে। তারই ধারাবাহিকতা হিসাবে চষে বেড়িয়েছি দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশ। গেছি গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়ার শহর কলোম্বিয়ার কার্তাজেনা দ্যা ইন্ডিয়াসে। উঠেছি পেরুর ইনকাদের লস্ট সিটি মাচু পিচুর উচ্চতায়। এন্ডিস পর্বতমালার টান নিয়ে গেছে পেরুসহ বলিভিয়া, ইকুয়েডরের পথে প্রাস্তে। জেরুজালেম হয়ে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় যাওয়ার ভেতর ছিল টান টান উত্তেজনা। ছিল ইতিহাসের অনেক অধ্যায়ের মুখোমুখি হওয়ার বিরল সুযোগ।