একটা কালো পোকা মেঝেতে উলটা হয়ে আমার ছাদের দিকেই তাকা'য়া ছিল। গুবরেপোকার মতই, সাইজে একটু বড়। পোকাটাকে আমি ভাষার বয়ামে আটকায়' ফেললাম। এইবার সে আর এই বস্তু-পৃথিবীর কেউ থাকল না, এমন-ও না যে পরলৌকিক কোন পোকা হ'ল। বরং বলা যায়, একটা ঘটনা হ'ল সে। যেমনঃ চিড়িয়াখানা রোডে লাস্ট শুকরোবার দিনে-দুপুরে একটা পেশোয়ারি ময়ূর দেখা গেছে, যে বৈশাখ উপলক্ষ্যে সামান্য বার্গার খাইতে চাইসিলো। নিজ প্রেয়সী-রে গিফট করবার জন্য নাকি বগলে একটা বাগেশ্বরী শিল্প নিয়ে ঘুরতেসিলো ঐ লোক। ঠাকুরের বিসর্জন ঘটসে, মহল্লার বাবুর্চি পোলাপান ওর চোখ কানা করে দিসে— এখন নিজের একটি আশ্রয় সে খুঁজে পাইতেসে না কোনভাবেই। এইগুলি-তো ঘটে, কেউ কেউ দেখলাম শুনে হাসে, হৈহল্লা করে। কেউকেউ এমন-ই লোভী ও লালন প্রকৃতির, তথাপি লেজবিহীন। এ'টা স্বাভাবিক, কেননা— কেউকেউ কখনোই জীবনানন্দ না, সবাই হচ্ছে একপ্রকারের সজনীডাঁটা। সেই ডাঁটার উপরের বিভ্রান্ত পোকাটা বয়ামের ভিতর থেকে রাতভর আমাকে দেখবে। বাইরে বাতাসের শব্দ আছে। বনের দিকের প্রশস্ত পথজুড়ে পাতা ঝরে পড়ার মন্থরতা আছে।