ধর্ম নিরপেক্ষতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বহুবার বলেছেন, ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ধর্মহীনতা নয়। প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও প্রচারের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। শুধু রাষ্ট্র ও রাজনীতি ধর্মের ব্যাপারে নিরপেক্ষ থাকবে, কোনো বিশেষ ধর্মকে প্রশ্রয় দেবে না। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ধর্মের পবিত্রতা রক্ষা এবং ধর্মের নামে হানাহানি এবং ধর্মব্যবসা বন্ধের জন্যই এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিববুর রহমান তার জীবনের পুরো সময় ব্যয় করেছেন। অতীতের প্রতিটি ঘটনায় বঙ্গবন্ধু বিচক্ষণতার সাথে সাম্প্রদায়িকতার অন্ধকার জগত থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার জন্য ত্যাগ, সংগ্রাম, জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, অত্যাচার মাথায় নিয়ে এমন একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যে দেশে কখনো জাত, কুল, ধর্ম, বর্ণ নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এবং সংস্কৃতিতে প্রশ্ন উঠার কোনো সুযোগই নেই। বঙ্গবন্ধু কেবল একটি স্বধীন রাষ্ট্র দিয়েছেন এবং অনেক উচ্চতায় মানবিকতার ছোঁয়ায় সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, বন্ধন ও ভালোবাসায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক দর্শনও প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশে।