প্রেক্ষাপট: অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগ। বাংলার ললাটে তখন বর্গি নামক এক অভিশপ্ত দস্যুদলের পদচিহ্ন। জনপদে জনপদে হাহাকার, লুণ্ঠন আর মৃত্যুর বিভীষিকা—এক ধূসর পাণ্ডুলিপি। সেই প্রলয়বেলায় বীরভূমের নিভৃত সুপুর গ্রামে জ্বলে উঠেছিল দাউ দাউ প্রতিবাদের অনল। এই অগ্নিগর্ভ সময়ের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে এক অনন্য মহিমান্বিত চরিত্র—আনন্দচাঁদ গোস্বামী। তিনি কেবল এক সন্ন্যাসী নন, বরং ধর্মের সংকীর্ণ গণ্ডি পেরিয়ে শোষিতের প্রতিরোধের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। একদিকে বর্গিদের ধ্বংসের উন্মাদনা, অন্যদিকে মানবাত্মার অবিনশ্বর লড়াই—এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের অলিগলি ছুঁয়ে হেঁটেছে 'বর্গি বিদ্রোহী'।
কাহিনী ও মূলসুর: উপন্যাসটির হৃদস্পন্দন ধড়ফড় করে বীরভূমের সুপুর অঞ্চলের ঐতিহাসিক পুরুষ আনন্দচাঁদ গোস্বামীকে ঘিরে। গল্পের সূচনালগ্নেই বেজে ওঠে বিষাদের সুর, বাগদত্তা রাধার অকালপ্রয়াণ আনন্দচাঁদকে এক অতল শূন্যতায় নিক্ষেপ করে। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত হাহাকার অচিরেই