বৃত্তের গভীর নির্মাণে — শাশ্বত ভট্টাচার্য | বইপোকা
‘বৃত্তের গভীর নির্মাণে’ কাব্যে শাশ্বত ভট্টাচার্য ‘বন্যার জলের ঘূর্ণিপাকের মতো জীবন্ত বৃত্ত’ এঁকেছেন। কবি প্রত্যক্ষ করেছেন, প্রতিবেশ ও সমাজের অবক্ষয় জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। তাঁর বেøড-তীক্ষè শ্লেষশব্দে উন্মোচিত হয়েছে মানুষের চিৎশক্তির নিঃস্বতা, বৃক্ষ-খালখেকো দ্বিপাদ জন্তুর চারিত্র্য এবং আত্মপ্রচার ও নির্বীর্য বুদ্ধিজীবিতার স্বরূপত্ব। শ্যামাসুন্দরী খাল দখলকারীর কয়ায়ত্ত, এক আবিল যাত্রায় পুরবাসী ভাসিয়ে দিয়েছে নিজেদের অস্তিত্ব। শ্যামাসুন্দরীর ঠিকাদারের হাতে প্রেমিকাকেও ছেড়ে দিতে হয়। চতুর্দিকে বেজে ওঠে আত্মপ্রচারের জয়ঢাক, ‘জ্বলে ওঠে শিশ্নের তীব্র শিখায়।’ সমাজে দুরপনেয় হয়ে ওঠে কৌশলতন্ত্র, উদ্ধারকারীকে দংশন করে কর্কোটক। রাত্রি দীর্ঘতর হয়; ‘রোদের জন্য একটি তামাটে হাত রুগ্ন গাছের ডালের মতো প্রসারিত’ হতে থাকে। প্রনষ্ট মানুষের ভিড়ে তীব্র অগ্নিশিখার পিঠে ‘শেষহীন যাত্রায়’ ছুটে চলে ক্রন্দিত পথিক। -গৌরাঙ্গ মোহান্ত