সাহিত্য-সমালোচনার বৈচিত্র্য ও সৃজনসামর্থ্যে বুদ্ধদেব বসুর স্থান অনন্য, যিনি সমালোচনাকর্মকেই করে তুলেছিলেন সাহিত্য। ‘চাই-আনন্দের সাহিত্য’ (১৯৫১) লিখে আলোড়ন তুলেছিলেন যিনি, সাহিত্যপাঠে তিনি আত্মলীন সমালোচনার আনন্দটুকুও চিনিয়ে দেন। যদিও তা কেবল ভার অবমুক্ত আত্মকেন্দ্রিক আনন্দ-বিহার নয়। যে একনিষ্ঠ অনুশীলন, সাহিত্যবোধ, নান্দনিক প্রতীতি সর্বোপরি শিল্পের স্বরূপ অনুসারী দায়বোধ একজন সমালোচককে পরিণত করে রসপ্রমাতায়, শিল্প বিচারে তা গভীরভাবে ধারণ করতে পেরেছিলেন বুদ্ধদেব বসু। রবীন্দ্রনাথসহ সমকালীন গুরুত্বপূর্ণ অনেক সাহিত্যিকের সৃষ্টিই প্রাধান্য পেয়েছে তাঁর সমালোচনায়। এ গ্রন্থে বুদ্ধদেব বসুর শিল্পতাত্ত্বিক ধারণা ও প্রত্যয় এবং সাহিত্য-সমালোচনার মতাদর্শ ও ভঙ্গি (approach) বিশ্লেষণ করা হয়েছে।