‘বুদ্ধজায়া’ গৌতম বুদ্ধের জীবন আধারিত উপন্যাস নয়। বরঞ্চ, ইতিহাস উপেক্ষিত বুদ্ধপত্নী যশোধরা গোপার জীবনের ঐতিহাসিক তথ্য নির্ভর উপন্যাসের কাল্পনিক কাহিনী। ‘ধর্মগুরু’ গৌতম বুদ্ধ নয়, এখানে উপস্থাপিত করা হয়েছে ‘মানুষ’ বুদ্ধদেবকে-- যে প্রশ্নের উর্ধ্বে নয়, ত্রুটিরও উর্ধ্বে নয়। হ্যাঁ-- সমগ্র বিশ্বকে বুদ্ধ মুক্তির নব্য মার্গ দেখিয়েছিলেন সত্যি। অপর দিক থেকে দেখলে কিন্তু এটাও সত্যি, তাঁর জন্যেই আর্যাবর্তে ক্ষত্রিয় ধর্ম বিপন্ন হয়েছিল। ধ্বংস হয়েছিল তাঁর জন্মকুল। তাঁর জন্যেই তাঁর সময়কালীন আর্যাবর্তে গার্হস্থ্য আশ্রমের ভিটায় ঘুণ ধরেছিল। আর বৌদ্ধ যুগের নারীরা? বুদ্ধের নিকট-আত্মীয় নারীকুল? ‘বুদ্ধজায়া’ তে এই নারীদের বিপন্ন বাস্তবের পরিপ্রেক্ষিতে এক উপেক্ষিত যুগসত্যকে প্রতিস্থাপন করার প্রয়াস করা হয়েছে।