সত্য হলো বাবুল বিশ্বাস কোনো অতিপ্রজ নাট্যকার নন, এবং তিনি তা স্বীকারও করেন। তবে একথাও সত্য তার অপ্রতুল নাট্যরচনাতে যে মূর্ত ও বিমূর্ত নাট্যশৈলীর বুদ্ধিক সংমিশ্রণ হয়, সমাজের অসংগতিগুলোর উপলব্ধি সংক্রমিত হয়, তা দর্শক-পাঠকদের মনোজগতে এক প্রলম্বিত অভিঘাত সৃষ্টি করে; যাকে আধুনিক নাট্যবোদ্ধারা নাট্যনান্দনিকতার একটি আবশ্যিক উপাদান রূপে চিহ্নিত করেন। এখানেই বাবুলের স্বার্থকতা। বাবুল বিশ্বাস-এর নাটকের সংলাপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ বাক্যালাপ বলে মনে হলেও তার গভীরে আবদ্ধ ইঙ্গিতময়তা সকলকে চিন্তাক্রান্ত করে, চমৎকৃত করে, সচেতন করে। বের্টল্ট ব্রেশট এই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতময়তার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তাঁর সব নাটকে; কারণ শিল্পকর্ম তো বাঙময় হয় তার অধরা চারিত্র্যের জন্যেই। সম্ভবত এসব কারণেই বাবুল বিশ্বাস মাঝে-মধ্যেই নাটক লিখেন। পাশাপাশি বাবুল একজন অকপট অনিসন্ধিৎসু নাট্যগবেষক; দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ কর্মটি নিরবচ্ছিন্নভাবে করে আসছেন। বাবুল নাট্যকর্ম ও নাট্যকর্মকাণ্ডের ঐতিহ্যকে প্রমূল্যে বিশ্বাস করেন। -অধ্যাপক আবদুস সেলিম