হাফিজ রশিদ খান বলেন: কবিতার নিধুবনে দীর্ঘ ভ্রমণে আছেন মোস্তফা হায়দার। তার সহজ মনের স্তোত্রগুলো ঘাস-গালিচার মতো আনন্দ দেয়। কখনো বা উঁকি দিয়ে যায় বেদনা ও বিমনা সংলাপও। ব্যক্তি তো আসলে নিরংকুশ একা নয়। যৌথতার সঙ্গে তার আংটা জড়িয়েই থাকে কোনো না কোনোভাবে। আর সেই ব্যক্তিসত্তা যখন কবিতার ভ্রামণিক হন, তার অ্যান্টেনায় সমাজসত্তার কিছু-কিছু ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তো টংকার তুলবেই।মোস্তফা হায়দার সেই অর্থে সচেতন কবি। তাই রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র বহির্ভূত মানুষ ও তাদের ক্ষোভ -ক্রোধের অনুনাদ শ্রুত হয় তার পংক্তির কাতারে। আবার নির্জলা বা কট্টর সচেতনও বলা যাবে না এ কবিকে। কেননা কিছু লোহিতাভ প্রণয়কাতরতাও তাকে গাঢ় করে কাছে টানে মায়া ও মমতার মতো। একটি পুরোদস্তুর মানবিক অস্তিত্বের রাগ -অনুরাগের অক্ষরমালায় মোস্তফা হায়দার সময়ের কণ্ঠস্বর। সময়ের কবিতায় যৌথ কোরাসও। একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকজুড়ে কবিতা, লিটনম্যাগচর্চায় মোস্তফা হায়দার নিজেকে বিকশিত করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। `সাগরকন্যা' নামীয় ছোটকাগজে একালের তরুণ-তরুণীদের সাহিত্যমুখী কলরব মুদ্রিত করে চলেছেন। সাহিত্যচর্চার মানবীয় বিতানে তার কবিতা এদেশের মানুষের, নদী-নিসর্গ, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা হৃদয়ের আলোয় উচ্চকিত করে তুলবে, এমন আভাস তার `চৈতালিপার্বনে কাঁচা মাংস' ধারণ করেছে। মোস্তফা হায়দার আগামী দিনগুলোতে কবিতার কমলকামনে প্রস্ফুটিত পুণ্ডরীকের প্রতিভু হয়ে উঠবেন, এই প্রত্যাশা লালন করি অন্তরতলে।