সমতলে প্রপাতের আলো যারা বাংলাদেশে রক্ত বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে, সে সব পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের মুখচ্ছবিগুলো ভাসতে থাকে সিফাতের মনের পর্দায়। কিন্তু জীবনের শেষসম্বল রক্তটুকু বিক্রি করে তারা কত টাকা পায়? শোনা যায় ওই রক্ত বিক্রির টাকা দিয়ে কেউ কেউ কোকেন, হেরোইনের মতো মরণনেশা কিনে খায়। সে সব নেশাগ্রস্তরাই আবার রক্ত বিক্রি করে। হাসপাতালগুলো সে সব রক্ত কিনেও নেয়। সংরক্ষিত রক্তের ব্যাগগুলো হিমাগারে পাঠানোর আগে কী সূক্ষ্মভাবে তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়? বাংলাদেশে যারা রক্তবিক্রেতা তাদের নাকি আবার এজেন্ট, দালালও আছে। বিক্রিত রক্তের দামের কমিশন পেয়ে থাকে সে সব এজেন্ট—দালালরা। এরকম অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর হাতড়াতে হাতড়াতে মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের কর্নারের কফিশপে এককাপ ব্ল্যাক কফি নিয়ে বসে পড়ে সিফাত। বিশে^র ব্যস্ততম নগরী নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের বিশ^জোড়া খ্যাতি আছে। এই হাসপাতালে কোনো রোগী দেখতে সিফাত যে—আজ প্রথম এসেছে তা নয়। এর আগেও পরিচিত কোনো চিকিৎসাধীন রোগী দেখতে এখানে এসেছে সে। কিন্তু আজ যে—অভিজ্ঞতা সে অর্জন করেছে, তা এর আগে কখনো হয়নি। তাকে মুখোমুখি হতে হয়নি এমন অনেক জিজ্ঞাসারও। আজ সিফাতকে হাসপাতালে আসতে হয়েছিল শুধু একজন রোগীকে সঙ্গদানের জন্যই নয়। একজন রোগীর সিদ্ধান্তগ্রহণে ‘অথরাইজড পারসন’ হিসেবে প্রক্সি পেপারগুলোতে স্বাক্ষর করতে। কিন্তু সিফাত ভাবতেও পারেনি আজকের এই দিনটি তার জীবনে নতুন ভাবনার সূর্যচিহ্ন এঁকে যাবে। তাকে ডুবিয়ে দেবে চিন্তার ঘনিষ্ঠ সায়রে।