দিলার মনে অপার আনন্দের ঢেউ খেলছে। সে মোটেও অপমানিত বোধ করছে না। বরং সে ভাবছে কালো হয়ে জন্ম নেয়াটা স্বার্থক। নাহলে এক্ষুনি এই অভদ্র লোকটার হাত ধরে ওর ঘরে যেতে হতো আর ভবিষ্যতে কী জানি কোন ফল ভোগ করতে হতো? ভেতরে ভেতরে তার এত শান্তি লাগছে কেন? কেন অসাড় দেহে শক্তি পাচ্ছে? কেন ক্লান্তি ভাব চলে যাচ্ছে? কেন বুকের ধক ধক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? একদম শান্তির শীতল রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে, এমনভাবে যেন তার দেহকে সুশীতল ধারায় ডুরিয়ে দিচ্ছে। ঘুম চলে আসছে, ঘুম। আহা! কতদিন ভালো করে ঘুমাই না। নির্ঘুম রাত কাটাতে কাটাতে ক্লান্ত। একটু ঘুমাব একটু। তারপর চলে যাব সামুর কাছে। তার দরজায় কটকট করব খুব ভোর বেলায়। সে জেগে উঠলে তাকে নিয়ে দূর কোথাও চলে যাব দিগন্ত পর দিগন্তে হেঁটে হেঁটে। দেখাব সূর্য রাঙা ভোর। তার হাত ধরে হেঁটেই যাব হেঁটেই যাব, রাখব মাথা আলতো করে তার কাঁধে। তারপর বুকের ভেতর মুখ লুকিয়ে বলব, আমিও তোমায় ভালোবাসি, ভালোবাসি খুব খুব ভালোবাসি।