"চন্দ্রমুখী জানালা" বইটির প্রথম ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃ কদিন আগেই তাে পূর্ণিমা গেল। বিছানা থেকে উঠে পুবদিকের জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন বাবা। এক তীব্র আলােতে তাঁর সারা শরীর যেন মুহুর্তেই উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। খুব ইচ্ছে হলাে এই জোছনার জোয়ারে ভাসতে। হাতের ঘড়ির কাঁটায় তখন মধ্যরাত জোছনা উপভােগ করতে এই দুপুররাতে বাইরে বেরােনাে একটুও শােভন দেখাবে না এই অজানা জায়গায়। জানালার ফাঁক গলে বাইরের ভুবন আলাে-করা চাঁদের আলাে গায়ে এসে পড়তে লাগলাে। বাবা আর বাইরে বের হলেন না। চাঁদের আলাের উজ্জ্বলতা ছাপিয়ে মুহূর্তেই এক অজানা আশঙ্কা বাবার মনকে ভারী করে তুললাে। বাবা ভাবতে লাগলেন, সদ্য স্বাধীন ‘জয়বাংলা' তবে কি আজকের এই চাঁদের আলাে! যে আলাে তার মতাে সংখ্যালঘুদেরকে সারাজীবন চন্দ্রমুখী জানালা দিয়েই উপভােগ করতে হবে। কখনােই দুয়ার খুলে বাইরে বেরিয়ে স্বাধীনতার আলাে গায়ে মাখতে পারবে না!