সকাল সকালই বাড়ির থেকে বেরিয়ে পড়েছিল পৃথা। খুব দূরের পথ যদিও নয়, কাছেরও তো নয়। বালিগঞ্জ থেকে ট্রেন ধরলে চল্লিশ মিনিট। অবশ্য রেলকোম্পানির লিখিত সূচি যেমন। আদতে লাগে আরও বেশি। আজও লাগল। ঠিক আগের আগের স্টেশনটাতে শুধু শুধুই দশ মিনিটটাক থমকে রইল গাড়ি। কি, না ট্রেনে ট্রেনে কাটাকুটি হবে, ছেলেবেলার দাগবসন্তী খেলার মতন। ওপার থেকে আপ আসছে কুউউ দম বেঁধে বুকে। ডাউন রইল চোখ বুজে পড়ে। আপ এসে হাঁপ জিরোল খানিক। ফের ছুটল শ্বাস টেনে। শেষ দাগ সে পেরিয়ে গেলে তবে ডাউনের নড়ার পালা। এরকমই নিয়ম খেলাটারও। দৌড়তে দৌড়তে আপ হয়ে যাবে ডাউন। তখন ডাউন নতুন করে আপ হয়ে ছুটে আসে দান দিতে। আপ-ডাউনের এই খেলার মাঝেই কখন যে ঘড়ির কাটা দশের ঘর পার। প্ল্যাটফর্মে পা রেখে পৃথা এদিক ওদিক তাকাল। ট্রেনটা তাকে ফেলে চলে যেতেই বুক জুড়ে আচমকা ডুবডুব ভয়। মাঘ সকালেও হাতের তেলো ঘামে বিজবিজ। সদ্য নামা ঝুড়ি, বস্তা আর কেজো হেটো মেয়েপুরুষ যে যার মতো ব্যস্ত সবাই। চোখ যদিও উলুক-ঝুলুক দামি মোড়কের পৃথার। দিকে। ভাবটা এমন তুমি আবার কোনো পৃথিবী থেকে এলে হে সুন্দরি? ডানামেলা শিরীষ গাছের ছায়ায় তাড়ির হাঁড়ির পাহারাদার এক কানাবুড়ো।। চোখ দ্যাখো তার, এদিকেই স্থির। পৃথা ঘুরে দাঁড়াল। যেদিকে তাকাও শুধু অচেনা মানুষ, অদেখা আকাশ আর অনাত্মীয় গাছগাছালি।