কবিতা কবির একান্ত আশ্রয়। কবিতা কবির আশ্রমও বটে। প্রেমে-অপ্রেমে, কামে- ক্রোধে, দেশ-দেশহীনতায়, নির্জনে অথবা জনারণ্যে কবিতা কবির ব্যক্তিঅনুভবকে নৈর্ব্যক্তিকতায় উন্নীত করে। সেভাবেই হেলাল চৌধুরীর কবিতার শরীর তৈরি হয়েছে। শুধু ব্যক্তিমানবের চিন্তার ব্যাপ্তি নিয়ে নয়, পুরাণ-মিথের সং¯পর্শে তা পুরো জীবনকেও ছুঁতে চেয়েছে। আরাধ্য সুন্দরকে নয়; বরং বিদঘুটে অন্ধকারে সুন্দরকে গোগ্রাসে গিলে খাবার বাসনায় কবির কবিতা কখনও কখনও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। কবির দর্শনভাবনায় ইতিহাস ও পুরাণ হাত ধরাধরি করে হেঁটেছে--যদিও তাঁর কবিতার ঠিকানা নদী-মেখলা আর পাহাড় ঘেরা প্রিয় স্বদেশ। এই সাকিনের রূপক উপমায় মূলত বিচ্ছিন্ন-বিপন্ন মানবিক সত্তাই কথা বলেছে হেলাল চৌধুরীর কবিতায়। নিসর্গ-কবিতায় এসেছে মানবিক অনুভূতিরই বিবিধ প্রকাশের বাসনায়। কবিতাযাপনের দীর্ঘ ইতিহাস কবিকে নিমগ্ন এক বিচ্ছিন্নতায় লুকিয়ে রাখে কি? হেলালপাঠ-বঞ্চিত পাঠকের অনুভব হয়তো তা-ই বলবে। তবে কি জনমভর দাইদালুসের বিপুল বিলাপ অসমাপ্তই থেকে যায়? তারই উত্তর খুঁজতে পাঠককে সচেষ্ট করবে হেলাল চৌধুরীর কাব্য দাইদালুসের বিলাপ, ঘুণে কাটা মানুষেরই বিলাপ হয়ে।