খাদ্যশস্য তথা ধান উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। এখন কারও আর ভাতের অভাব নেই। কিন্তু চাহিদার তুলনায় অভাব রয়ে গেছে ডাল, তেল ও মসলা ফসলের। ভাত খাওয়ার জন্যই আমাদের এগুলো দরকার। চাহিদার সবটুকু এখনো আমাদের দেশিয় উৎপাদনের দ্বারা পূরণ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ডাল, তেল ও মসলা বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে। সেজন্য দেশে এ তিন ধরনের ফসলেরই উৎপাদন বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু চাইলেই তো আর উৎপাদন বাড়বে না। তার জন্য চাই পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা। দিন দিন চাষের জমি কমছে। তাই উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এখন একক জমি থেকে ফলন বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। সেজন্য উন্নত অতিফলনশীল জাত ব্যবহার করে আধুনিক কলাকৌশলের মাধ্যমে আমাদের এসব ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হবে। এসব ফসলের সেসব কৌশল বা প্রযুক্তিগুলোই কৃষিবিদ মৃত্যুঞ্জয় রায় অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় লিখেছেনে তাঁর 'ডাল-তেল ও মসলা ফসল চাষ' বইটিতে। এ বইয়ে তিনি মসুর, মুগ, মাসকলাই, ছোলা, অড়হর, খেসারি, মটর, ফেলন, সরিষা, তিল, সয়াবিন, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, কুসুম ফুল, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, মরিচ, আদা, ধনিয়া, কালোজিরা অর্থাৎ মোট ২১ টি ফসলের আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। আশা করি কৃষক ও সম্প্রসারণ কর্মীদের, কৃষির ছাত্র-ছাত্রীদের বইটি যথেষ্ট কাজে লাগবে।