“ছয়টি ছোটগল্প আছে এই গল্পগ্রন্থে। স্মৃতিচারণকে কমন কম্পোন্যান্ট হিসেবে রেখে আলাদা প্রেক্ষাপটে রচিত প্রতিটি গল্প। কেউ হালিশার কিংবা আলি শাহ, যারা আবর্তনে আর বিবর্তনে হয়তো মূল নাম থেকে ডাক নাম হয়ে যায়। আদতে কোনো অ্যাকাডেমিক শিক্ষা নেই কিন্তু নাগরিক হিসেবে ঠিকই সচেতন। ডিজিটালাইজেশন তাকে বৈষম্য করেনি তাই অর্থনীতি খেকো কুমিরদের তারা ঠিকই চেনে। আবার শুধু ‘সেট অফ রুলস’ ফলো করা প্রান্তিক মানুষের সরলরৈখিক গল্পই নয়, এখানে আছে অসুস্থ এক দর্শনের ক্রোধ আর তার বিপরীতে বিনীতার বোধ; পারিজার রাজনৈতিক ভাবদর্শন, সাময়িক সংকট-সৃষ্ট জার্নালিজম-এর একনিষ্ঠ শ্রোতা হিসেবে তার স্বগতোক্তি আর পুরাঘটিত ব্যক্তিকালের কম্পোজিশন; রাধোর ‘ভাঙবো কেন, ভাঙিনা’ টাইপ চারিত্রিক বেদন আর ইথিক্যাল পারসেপশন; তাবাসসুমের বাধ্যগত জীবন থেকে করা এক লহমায় বিপ্লব। অন্যদিকে দহনকাল এসকোর্ট করা রিমুর দৈবাৎ ফিরে পাওয়া সুদিন, যেখানে মানুষ নয়, প্রকৃতিই হয়ে ওঠে প্রধান চরিত্র। এগুলো গল্প, ন্যাচারাল টোনে বলা মেটাফরের চরিত্র বদল, অন্য কারো উপাখ্যানের ভেতর কাল বয়ে নেওয়া অগণিত মানুষের ভার কিংবা হাহাকার।”