বিলের ধারে একটা সুন্দরী গাছ। গাছের উপর একটা পাখির বাসা। পাখির বাসায় পড়ে আছে দুটো সবুজ রঙের পালক। গাছের নিচে নির্বিকার চিত্তে দাঁড়িয়ে আছে সাজিদ। সাজিদের চোখ দুটো ছলছল করছে। পাখির শূন্য বাসার মতো শূন্য সাজিদের হৃদয়। শুধু পড়ে আছে পাখির পালকের মতো কিছু স্মৃতি। সাজিদ গাছটার নিচে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। সাজিদের দৃষ্টি পাখির বাসা থেকে সরে না। সময় কাটতে থাকে। মাসের পর মাস যায়। গাছের পাতা ঝড়ে পড়ে। পাখিটা আর বাসায় ফিরে আসে না। পাখিটার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা সাজিদের হৃদয়ে কষ্টের ঝড় বয়। ঝড় আসে প্রকৃতিতেও। সুন্দরী গাছটাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। সাজিদ শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। আজ গাছ নেই, পাখির বাসাটাও নেই। পাখিটা ফিরে আসার সব রাস্তা বন্ধ। সাজিদের দম বন্ধ হয়ে আসে। একটু নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য সাজিদ হাত-পা ছুড়তে থাকে। তার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। সাজিদের মনে হচ্ছে সে আর বাঁচবে না। হঠাৎ সাজিদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে বসে সাজিদ। সাজিদ হাঁপাচ্ছে। যেন কয়েক ক্রুশ পথ দৌড়ে এসে তার যাত্রার সমাপ্তি ঘটেছে ভীষণ তৃষ্ণা নিয়ে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। এক ফোঁটা পানির জন্য হাসফাস করতে লাগলো।