আসাদের গায়ের রক্তে তুলির পুরো জামাটা ভিজে যায়। সেই রক্তে ভেজা শার্ট পরে তুলি পাগলের মতো সেখান থেকে ছুটতে ছুটতে হলে চলে আসে। সে কিছুক্ষণ কাঁদে আবার হাসে। তুলি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে যে করেই হোক বঙ্গবন্ধুকে জেলের তালা ভেঙে বের করে নিয়ে আসতে হবে। এদেশের স্বাধীনতা চাই চাই। রাতের বেলা তুলির প্রচণ্ড জ্বর এলো। মনে যেন পাথর বসে আছে। আসাদের মুখখানা তুলি কিছুতেই ভুলতে পারছে না। কোন মলম লাগালে মনের এ ব্যথা সারবে তুলির জানা নেই। তুলি সারাদিন একা একা কথা বলতে লাগল। আসাদের রক্ত সে বৃথা যেতে দিবে না। তুলির শরীর ও মনের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। দুইদিন পর তার ভাই এসে তাকে সাতক্ষীরা পাঠিয়ে দিল। বাড়ি পৌঁছে দীর্ঘদিন পরে মহসিনাকে দেখে তুলি কিছুটা স্বস্তিবোধ করল। কিন্তু মনের মধ্য থেকে কিছুতেই আসাদের মুখখানা ভুলতে পারছিল না। ঘুমের মধ্যে তুলি কেঁপে কেঁপে উঠছে আর চিৎকার করছে। মনপ্রাণ দিয়ে মহসিনা তুলির যত্ন করে।গভীর রাতে মহকুমা শহরের নীল আকাশে চকচকে রূপালী চাঁদ আলো ছড়িয়ে যাচ্ছিল। এখনো জেগে আছে তুলি। তার মনে শুধু একটাই চিন্তা কি করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্ত করে নিয়ে আসা যায়।