সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ এর লেখা ও বেঙ্গল পাবলিকেশন্স প্রকাশনীর বই "ঢাকা শহরের ভিখারিদের গান | Buy this book at 285 BDT from বইসদাই - boisodai.com | Bangladesh | বইপোকা
প্রসঙ্গ কথা এই শতকের গোড়ার দিকে গবেষণাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতার উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তারই ধারায় আংশিক সহায়তা পেয়ে আমি ভিখারিদের গানের এই সংগ্রহ শুরু করি। এর জন্য তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষ করে কলা অনুষদের তৎকালীন ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহকে ধন্যবাদ জানাই। গান সংগ্রহে আমাদের সম্বল ছিল দুটো মধ্যমমানের মিনি ক্যাসেট রেকর্ডার, ডজনখানেক বিভিন্ন ধরনের অডিও ক্যাসেট এবং কয়েক ডজন ব্যাটারি। সঙ্গে একটি ওয়ানটাইম ক্যামেরা, যা তখন আমেরিকা থেকে পাঠিয়েছিলেন ভ্রাতৃপ্রতিম জিয়াউল হাসান মান্নান। এর পরের বৃত্তান্ত ভূমিকায় লিপিবদ্ধ আছে। ২০০৫-০৬ সালের দিকে খাতায় লেখা ৭২টি গান কমপোজের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতির সপারেটর দুর্জয়। বছরখানেকের মধ্যে এর দুটো প্রুফও দেখা হয়। কিন্তু এর কিছুদিনের মধ্যে দুর্জয় ও কমপিউটারের জটিল সমীকরণে সমস্ত ফাইলটাই উধাও হয়ে যায়। আমি হাল ছেড়ে দিই। অনেক পরে অডিওসহ গানের সংগ্রহটি নিয়ে কথা হচ্ছিল বেঙ্গল পাবলিকেশন্সের অগ্রজপ্রতিম আবুল হাসনাতের সঙ্গে। তিনি স্বল্প কথায় তাঁর আগ্রহ দেখান। কিন্তু কোভিড-অতিমারি আমাদের কাজ থামিয়ে দেয় এবং পরে আবুল হাসনাতকে চিরতরে আমাদের কাছ থেকে দূরে নিয়ে যায়। কিছুদিন আগে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরীর আগ্রহে ভিখারির গানের পাণ্ডুলিপি নিয়ে আবার কাজ শুরু করি। অডিও টেপ থেকে বর্তমান পাণ্ডুলিপির অনুলিখন আমার গবেষক-ছাত্র শাহনেওয়াজ রিপনের সংগ্রহে সময়ও সে সার্বক্ষণিক আমার সহযোগী ছিল। তাই এই বই যতটা আমার, ততটাই রিপনের। এসব গানের কথা ভিখারি-গায়কদের। আমরা শুধু পুনরুক্তিগুলো বর্জন করেছি। কিছু কিছু শব্দও পরিমার্জন করেছি, যেগুলো নিশ্চিতভাবেই ভুল মনে হয়েছে। তবে গানের বক্তব্য বা বাণীর ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। বানান প্রমিত করতে গিয়ে অনেক অভ্যস্ত বানান বাদ দিতে হয়েছে। যেমন নবীর স্থলে নবি। তবে দ্বীনের স্থলে দ্বিন করতে বাধ্য হয়েছি, পাঠে দিন ও দিন একাকার হয়ে যাবে বলে। কয়েকটি ক্ষেত্রে চরণেও সামান্য সম্পাদনা করতে হয়েছে। তাই অডিওর সঙ্গে কোথাও কোথাও তারতম্য মনে হতে পারে। গানগুলোতে ঘটনার বর্ণনা এবং বিধৃত বিশ্বাস-বক্তব্য গায়কদের। সংগ্রাহকের বিশ্বাসের সঙ্গে তা অনেক সময় না-ও মিলতে পারে। গানগুলোর অডিওর মান ভালো নয়। আলোকচিত্রগুলোরও একই অবস্থা। এর কারণ দুর্বল রেকর্ডিং যন্ত্র এবং ওয়ানটাইম ক্যামেরা। তার ওপর অডিও ক্যাসেট ও ফটো নেগেটিভ দুটোরই বয়স এক যুগ পার হয়ে গেছে। তবুও খাঁটি গানের স্বাদ পাওয়া এবং পরিবেশ সম্পর্কে ধারণার জন্য ওগুলো যুক্ত করা হলো। এই বইটি প্রকাশের প্রাক্কালে আমরা ভিখারিদের সন্ধানে আবার কমলাপুর যাই। দুঃখের বিষয়, তাদের মধ্যে জরিনা বেগম ছাড়া কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। পূর্বের কথকদের মধ্যে মূল গায়ক কাশেম আলী ও ওমজু মিয়া বেঁচে নেই। কমলাপুরের পরিত্যক্ত প্ল্যাটফর্মের ভিখারি আবাসও এখন আর নেই।বইটি প্রকাশে আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বেঙ্গল পাবলিকেশনসের কর্মী ও প্রচ্ছদশিল্পীসহ মুদ্রণের সঙ্গে যুক্ত সকলকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাই।