জন্ম-জন্মান্তর আরক্ত হওয়ার নিয়তি নিয়ে শব্দমদিরা পূরণে ব্রত হন কবি। শিল্প ও বাস্তবতার চিরন্তন দ্বন্দ্বে তাঁর অন্ত্র ও তন্ত্র প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হয়, পীড়িত হয়; ডানা ঝাপটায় আহত পাখির মতো। কবিতায় সে মর্মপীড়া বহন করে চলেন প্রতিভূ কবি। যাপিত জীবনের এই আখ্যানসমূহকে অভিজ্ঞান করে সহজ-সরল বয়ানে কবিতা লিখেন কাকলী চৌধুরী। তার কবিতার প্রেক্ষায় চক্রাবর্তে প্রতিভাত হয় তপ্ত পিয়াসু হৃদয়ের রোদন, ছিন্ন-বিপন্ন প্রাণের আত্মপ্রবঞ্চনার শাপ। এমনই এক চিন্ময় সত্তার শিল্পিত রূপ তার কবিতার সারাৎসার- যাতে বিরাজমান এক ভারাক্রান্ত হৃদয়ের অস্তিত্ব খুঁজে ফেরার লড়াই আত্মিক বোধের মধ্য দিয়ে নিজের অস্তিত্বকে উপলব্ধি করার যে নিরন্তর প্রয়াস, তার কবিতা তার-ই নির্জলা প্রতিরূপ। দিন যাপনের নৈমিত্তিক হর্ষ ও বিষাদ, শোক ও সন্তাপ, স্মৃতির রোদ ও কুয়াশার প্রস্বরে ভূমিষ্ঠ হওয়া কাকলী চৌধুরীর এই কবিতাগুলো পাঠকহৃদয়কে অনুরণিত করবে, আলোড়িত করবে, এক অন্যরকম মদিরতায় মোহিত করবে বলেই আমার বিশ্বাস। মাইনুল ইসলাম মানিক