'- বয়ঃসন্ধির চোখ - দর্জি হয়ে মাপতে থাকা সেই ছেলেটা বয়ঃসন্ধি পার না করেই যেই ছেলেটা গার্লস স্কুলের মোড়ে— ড্যাবড্যাব করে উঁকি মারে বারান্দাতে ছুঁড়ে। কী যেন নাম সেই ছেলেটার!? যেই ছেলেটা ছাতাওয়ালির পিছে পিছে দলের সবার কথার নিচে হাঁটতে থাকে মুচকি হেসে— বাড়ি কোথায় সেই ছেলেটার? যেই ছেলেটার ব্রণের দাগে মুখ ভর্তি, মোচের দাগে লাজ ভর্তি, হাত দিয়ে তাই মুখ ঢেকে রয়; কথা যা হয়—সব ইশারায়। ছুটির ঘন্টা বেজে উঠলে— সপ্তসুরে চুল আঁচড়ে যেই ছেলেটা পথ আগলায়— সেই ছেলেটা কলেজ রোডে আর থাকে না; হারিয়ে যায়। লতির মত ডিগডিগিয়ে বাড়তে থাকা মেয়ে— ছাতা মাথায় স্কুলে যায় তেমাথার লাইন দিয়ে। চোখগুলো যে কী সুন্দর! কাজলডাঙ্গার মেয়ে— দরিয়া উছলায় বুকের ভিতর এক পলকে চেয়ে! প্রথম কোন ছুটি নেয়া মনে জাগলে ডর— লুকাতে থাকে ওড়না দিয়ে বয়ঃসন্ধির ঝড়। কে দেখে যায়! কে দেখে হায়! ভিড়ের ভিতর ভীরু চাহনি নিয়ে— রাস্তা ধরে যায় হেঁটে ঐ সেতারা বানুর মেয়ে! রাস্তা থেকে নাই হয়ে যায় ঝড় থামে না তাও; ঘরের ভিতর রোদের আদর— লোক দেখলেই পালাও। রাস্তায় আর খুঁজে পায় না চিলের মত চোখ— খুঁজতে খুঁজতে বাড়ির পাশে পর্দাতে উম্মুখ। সুপারি পাতার বেড়ার ভিতর সাঁতার কাটা মেয়ে— গোসলখানায় লুকিয়ে যায় ভিজা কাপড় নিয়ে। গুনতে গুনতে এমন করে স্কুল শেষ হয়; কলেজ রোডে যাওয়ার আগেই— একি পরিণয়!