ধীরে ধীরে নিঝুম হয়ে এল বিশ্রামাগারটা। একটা হাই তুলে গাছের সাথে হেলান দিয় বসে আছে মাহিন। অজানা দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে আছে নদীর দিকে সে। বাতাস নেই, শব্দ নেই, একটার পর একটা কচুরিপানা ভেসে যায় নদীর স্রোতে। একটু আগে একজন দাঁড় বেয়ে চলে গেল নৌকায় পাল তুলে। ওইপাড়ে একজন নৌকায় গুন টেনে নিয়ে যায় ছেলেকে বৈঠা ধরিয়ে। আর কোনো শব্দ নেই। মাহিনের চোখজোড়া বন্ধ হয়ে এল ঘুমে, একটা বিছানা হলে বোধহয় ভালো হতো। হঠাৎ একটা বাচাল কাকের ডাকে ঘুম ভেঙে গেল মাহিনের। ভয়ে অন্তর কেঁপে উঠেছে তার, বুকটা যেন দুরুদুরু করে কাঁপছে। তবু দুই পাশে একবার করে তাকাল সে। কলাগাছে ঝুলে আছে একটা কালো বাদুড়, আর নদীর তীরে গুঁজো বকটি মাছের আশায়। ধীরে ধীরে আবারও চোখ জোড়া আবদ্ধ হয়ে এল তার ।