"দুই তীরের বায়োস্কোপ" বইয়ের ফ্ল্যাপে লিখা ছােট বেলায় ‘ওপেনটি বায়ােস্কোপ’, ‘উবুদুর' কিংবা ‘এক্কাদোক্কা’ খেলাগুলাে কম বেশি আমরা সবাই খেলেছি। গ্রাম বাংলার এই খেলাগুলাে হারিয়ে গিয়েছে আজ। যেগুলাে ছিল আমাদের সংস্কৃতির একটি বিরাট অংশ জুড়ে। আর এই খেলাগুলাের মতােই হারিয়ে গিয়েছে ফেনী নদীর দুই তীরের মানুষদের সংস্কৃতি। এক সময়ের যৌবনা ফেনী নদীকে বর্তমানে বলা হয় মরা গাঙ। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদারদের তাণ্ডবে ধ্বংস হয়েছিল ফেনী নদীর দুই তীরের বেশ কিছু হিন্দু বাড়ি। আবার কেউবা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের সাথে হারিয়ে গিয়েছে এই দুই তীরের হিন্দু বাড়িগুলাের বেশ কিছু পূজা-পার্বণ যেগুলাে ছিল দুই তীরের মানুষদের সম্প্রীতির অন্যতম মাধ্যম। চৈত্রসংক্রান্তী’র চড়কপূজা, সন্ধিপূজা, ষষ্ঠীপূজা, মঙ্গলচণ্ডী ব্রত, মনসা পূজার পুঁথি পাঠ, মঙ্গলগায়িকাদের গানসমূহ ছিল ফেনী তীরের হিন্দুবাড়িগুলাের বিশেষ কিছু সংস্কৃতি চর্চা। এখন খুব কমই প্রচলিত এই পূজাসমূহ। তবে এই অঞ্চলে, ফেনী নদীর দুই তীরের তকালীন হিন্দু বাড়িগুলােতে প্রচলিত সংস্কৃতির একটি অংশ ছিল কীর্তনগানসমূহ। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে বাড়ির উঠোনে সবাই গােল করে বসে মেতে উঠতাে শ্রী কৃষ্ণ বন্দনায়। উঠোনে ঢােল-মৃদঙ্গ বাজিয়ে সবাই কীর্তন গান শুনতাে। হ্যাঁ, ফেনী নদীর দুই তীরের তৎকালীন সময়ের হিন্দু বাড়িগুলাের সংস্কৃতি, গ্রামীণ মানুষদের লৌকিক বিশ্বাসসমূহ এবং তাদের চর্চিত বিভিন্ন আচরানুষ্ঠান অবলম্বনে রচিত উপন্যাস ‘দুই তীরের বায়ােস্কোপ'।