ব্রহ্মাণী জগতের সৃষ্টি করিতেছেন, ব্রহ্মা কখনই সৃষ্টি করিতে সমর্থ হয়েন না, অতএব মহেশ্বরি! ব্রহ্মা শব সন্দেহ নাই। বৈষ্ণবী-শক্তি রক্ষা করিতেছেন, বিষ্ণু কখনই রক্ষা করিতে সমর্থ নহেন, অতএব মহেশ্বরি! বিষ্ণু প্রেত সন্দেহ নাই । দেবি! রুদ্রাণী সংহার করিতেছেন, রুদ্র কখনই সংহার কার্য্যে সমর্থ হয়েন না, অতএব মহেশ্বরি! রুদ্রও শব সন্দেহ নাই । ফলতঃ ব্ৰহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর প্রভৃতি সকলেই জড়স্বরূপ; কারণ, শক্তি ব্যতিরেকে কেহই কোন কার্য্য করিতে সমর্থ নহেন। বস্তুতঃ শক্তিসমবেত ব্রহ্মা সৃষ্টি করেন, শক্তিসমবেত বিষ্ণু পালন করেন, শক্তিসমবেত রুদ্র সংহার করিয়া থাকেন; শক্তি ব্যতিরেকে ব্রহ্মা বিষ্ণু ও মহেশ্বরকে যেরূপ জড় বলা যায়, ব্ৰহ্মা বিষ্ণু ও মহেশ্বর ব্যতিরেকে শক্তিকেও সেইরূপ জড়স্বরূপ বলা যাইতে পারে; কারণ, শক্তি ও শিব পরস্পর পৃথক হয়েন না, উভয়ের অবিনাভাব সম্বন্ধ মূলপ্রকৃতি হইতে জগতের চরমসৃষ্টি পর্যন্ত চলিয়া আসতেছে।