মাহবুব সাঈদ মামুন মুক্তি চান। লিখছেন, 'জীবনপথের সকল গ্লানির/ সকল ক্লেদাক্ত জড়তার/ সকল সংকীর্ণতার মুক্তি চাই আমি ।' মুক্তির পথ খুঁজছেন, কিন্তু তাঁর “চিন্তার সাথে জীবনের হিসাব মিলে না যেন আর/হিসাব মিলে না কারো সাথে...।' মানুষের এই বিচ্ছিন্নতাবোধ নতুন নয়, কিন্তু মাহবুব সাঈদের আর্তি অস্তিত্বের অর্থহীনতার সংকটের আর্তি। তিনি জানেন ‘সূর্য, তারার মেলাতে/ বিরাজমান যত কিছু আছে ধরণিতে, মহাবিশ্বে,/ কণা, অণুকণা, পরমাণু সেসব মানুষ বহন করে তার শরীরে।' কিন্তু তার মাঝে যে প্রাণের উৎপত্তি সে মরে যায় বলেই কি বেঁচে থাকার এত প্রেরণা?' একটি টুনটুনি ছানার অকাল মৃত্যুতে তাঁর প্রশ্ন 'বিড়ালটি কেন এমন হিংস দানব হয়ে উঠল?’ হেমিংওয়ে বলেছিলেন, 'সাহিত্যসৃষ্টির জন্য তোমাকে শুধু একটি সত্য বাক্য লিখতে হবে।' মাহবুব মামুন কোনো কিছুকে আড়াল করেননি, প্রতিটি ছত্রই তার সত্য-উচ্চারণ- ‘শেষতক ছুটে চলে জীবন তীর বেগে/ নির্দ্বিধায় মৃত্যুর মিছিলের নিশানায়।' এই সত্য-উচ্চারণই তাঁকে করেছে কবি। —দীপেন ভট্টাচার্য