“একাত্তরের আগুন সময়" বইটির ফ্ল্যাপ এর লেখাঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। ১৯৪৭ সাল থেকে বাঙালির যে মুক্তির আন্দোলন শুরু হয় তার চুড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৭১ সালে। ১৯৭১ সালের সংঘটিত স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলেই পৃথিবীর মানচিত্রে অভূদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। মহান মুক্তিযুদ্ধে পুরুষের মত নারীরা বিভিন্নভাবে অংশগ্রহণ করে গৌরবময় ভূমিকা রাখেন। কেউবা শহীদের মা, বােন, স্ত্রী হিসাবে, কেউবা নিজে নিগৃহীতা, নির্যাতিতা ও সবকিছু হারিযে সর্বশান্ত হন। ফিরে আসবে না জেনে নিজের স্বামী, সন্তানকে যুদ্ধে পাঠান। নিজে যুদ্ধ করেন যুদ্ধ শেষের পরেও। লেখক হিসাবে, সমকালীন সামাজিক মানুষ হিসাবে একজন বস্তুবাদী ঐতিহাসিকের সমস্ত দায়-দায়িত্ব বহনে আমরা সর্বদাই অঙ্গীকারাবদ্ধ। দায়িত্ব অস্বীকারের অপরাধ সমাজ কখনােই ক্ষমা করে না। আমার বর্তমান গল্পগ্রন্থটি সে অঙ্গীকারেরই ফলশ্রুতি। এ গ্রন্থটিতে সমাজের চারপাশে ছড়ানাে ছিটানাে নিত্যদিন ঘটে যাওয়া নানান ঘটনাবলী নিয়ে রচিত বাইশটি ছােটগল্প রয়েছে। বাইশটি গল্প ভিন্ন রকম মেজাজের। এখানে বিভিন্নভাবে উঠে এসেছে নারীর সংগ্রাম, সাধনা এবং তার ক্রমান্তিক জিতে যাবার কাহিনি। এখানে আছে প্রেম, বিরহ, যাতনা, আনন্দ, কষ্ট, বেদনা, সকাল এবং রাত্রি। সব মিলিয়ে এক নান্দনিক উপাখ্যান এ গল্পগ্রন্থটি।