মানুষের জীবন এক প্যান্ডোরার বাক্স। যত দিন গড়ায় জীবন মৈথুনে অনিবার্য সব রঙ প্রকট হতে থাকে বোধের মর্মমূলে।কেউ দক্ষ শিকারী আবার কেউ নিতান্ত গোবেচারা , অবস্থা যা’ই হোক , প্রত্যেকেরই অনুভব জুড়ে বিশাল চারণক্ষেত্র। ঘ্রাণ আমাদের জীবনের অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। জন্ম হতে মৃত্যু, আমরা মূলত আমাদের মধ্যে ডুবে থেকে আশ্চর্য সব মদিরার খোঁজ করি ঘ্রাণের সেতু বেয়ে। আমাদের নিকট মায়ের ঘ্রাণ , মৃত্যুর ঘ্রাণ , প্রতারণার ঘ্রাণ, সুখ বা অসুখের ঘ্রাণ , বিষণ্ন বেদনার ঘ্রাণ , প্রাপ্তি কিংবা পতনের প্রভৃতি সবরকম ঘ্রাণের আনাগোনা। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে যে টার্মটা আমাদের ভেতর প্রগাঢ়ভাবে বিদ্যমান তার টার্গেট-পয়েন্ট ‘ঘ্রাণ’ ই বোধকরি সর্বেসর্বা। ‘ঘ্রাণ এবং আফরোজা জাহান’ যৌথভাষায় নির্মিত একটি পথ, যেখানে ‘ঘ্রাণ এবং আফরোজা জাহান’ সমগ্রের একক রূপে আবির্ভূত হয়েছেন একটি প্যারালাল বাক্স হয়ে। যদি সমীকরণ মেলাই তবে ঘ্রাণের ছেদক আফরোজা , আফরোজার ছেদক ঘ্রাণ। সূচনায় আত্মবোধের সেলাইয়ের ফোঁড় এঁকে দিয়ে আফরোজা জাহান জানান দিয়েছিলেন তিনি ঘ্রাণ রেখে যাবেন তার আত্মার এই পান্থশালায় , অক্ষরে অক্ষরে , অক্ষরের অক্ষত ঘ্রাণে। পাঠকের আতস কাঁচে দণ্ডিত হবার মুহূর্তে তাঁকে স্বাগত জানাই উচ্ছ্বসিত অভিনন্দনে। হিমাদ্রী চৌধুরী ঢাকা, বাংলাদেশ।