তীব্র তারুণ্যের সময়-সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে শব্দ-সৌরভে বিভোর কবি ফরিদ উদ্দিন মোহাম্মদ। আকৈশোর স্বপ্নস্নাত এই কবিতাকর্মী নাগরিক উত্তাপ ও কোলাহল জড়ানো শহুরে-সৌহার্দে সংশ্লেষিত করেছেন নিজ কাব্যস্বর। তাতে শব্দে-বর্ণে অনুসন্ধান করেছেন সত্যকে, বারবার বিদ্ধ হয়েছেন মুক্ত চৈতন্যের প্রয়াস ও জিজ্ঞাসায় প্রেম, স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের অভিনব টানাপোড়েন তার কবিতার চুম্বক বৈশিষ্ট্য। যাতে আনন্দের চেয়ে বেদনার ভার বেশি। তার কবিতায় হৃদয়ের চাপাকান্না কিংবা দীর্ঘশ্বাস গোপন করে তিনি হয়ে ওঠেন নিঃশঙ্ক বারুন। কবি এখানে তার কল্পদেবীর বিচিত্র যাপন ও দহনের অনুভূতিকে ধারণ করেছেন প্রেমিক মেধায়। মানুষ ফুল-পাখি-মেঘ-নদী-ঘুম-প্রাণ ও প্রকৃতির পারষ্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় তার নির্ভার পক্তিমালা বারবার খুঁজে ফিরে মহাপৃথিবীর সমূহ সমীকরণ। কবিতার কোমল জমিনে নন্দনপলি সঞ্চয়নের পাশাপাশি তিনি উচ্চকণ্ঠে বুনে দেন মানবিক মূল্যবোধের বীজ। সাবলীল বয়ানে, উপস্থাপনার সারল্যে, বহুমাত্রিক ভাব-চিত্রে পূর্ণ এইসব কবিতা মানুষের নৈর্ব্যক্তিক মনোজগতে তৈরি করে জাদুবাস্তবতার অপার ঘোর ও বিস্ময়! মুক্ত ছন্দে অঙ্কিত তাঁর কবিতার গীতল সুর ধ্বনিময় ব্যঞ্জনার প্রাচুর্যকে প্রাণবন্ত করে তুলে পাঠকের শ্রুতিসত্তায়। 'ঘুমনদী' কাব্যের দ্রোহী ও প্রেমিক এই কবিকে সাম্প্রতিক কাব্যজগতে স্বাগত জানাই।