উপন্যাসের মূল দুই চরিত্র; জন রায়ান ছাব্বিশ বছরের এক ব্রিটিশ যুবক ও নিকিতা রায়ান পঁচিশ বছরের এক জাপানি বংশোদ্ভূত যুবতী। তাদের জন্ম-বেড়ে ওঠা ব্রিটেনের ইংল্যান্ডে, ওরা পড়ালেখাও করেছে ইংল্যান্ডের একই বিশ্ববিদ্যালয়ে। একসময় তারা সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করার। বিয়ের পর হানিমুন করার জন্য জন ও নিকিতা পাড়ি জমায় সুদূর জাপানে। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে বিলাসবহুল এক প্রমোদতরীতে শুরু হয় তাদের হানিমুন। কিন্তু প্রথম থেকেই তাদের হানিমুন যেন আশানুরূপ ছিল না। নানারকম অপ্রত্যাশিত সব অনুভূতিতে ছেয়ে থাকছিল নিকিতা রায়ানের মন। প্রমোদতরীতে মানুষ ছিল প্রায় চার হাজার। অনেক সুযোগ-সুবিধা, আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও জন-নিকিতা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্ধারিত দিনে হানিমুন শেষ হওয়ার আগেই ওরা প্রমোদতরী থেকে বের হয়ে পড়বে। ভাগ্য ওদের সহায় হয় না, ওরা আটকে পড়ে সেই বিলাসবহুল জাহাজটিতে। আধুনিক যুগের সেই জাহাজ পরিভ্রমণে আগেকার দিনের মতো বিদ্রোহ, হত্যা, গুম, খাদ্যাভাব, স্কার্ভি রোগ ইত্যাদি দেখা না দিলেও দেখা দেয় এক ভয়ঙ্কর বিপদ। সেই বিপদে আটকা পড়ে জন-নিকিতাসহ জাহাজের প্রায় চার হাজার মানুষ! নিরবে চলতে থাকে তাদের বেঁচে থাকার লড়াই। সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে লেখা ‘হানিমুন’ নামের সমকালীন এই উপন্যাসে আছে জীবনের গল্প, মানবিক অনুভূতির গল্প, আছে হাসি-কান্না, প্রেম আর বিরহ।