সুনামগঞ্জের দূর গ্রাম পেরুয়ার বড়বাড়ির বধূ হয়ে এসেছিলেন গ্রন্থকার মানসী সাহা। হ্যাজাক বাতির আলোতে নববধূকে বরণ করতে সমবেত নারীদের মধ্যে লক্ষ্য করেন সিঁথিতে সিঁদুরবিহীন শ্বেতবস্ত্রধারীদের আধিক্য। অচিরে তিনি জেনেছিলেন পেরুয়া গ্রামে পরিচালিত গণহত্যার কাহিনি, বিজয়ের প্রাক-মুহূর্তে স্বাধীনতার মাত্র বারো দিন আগে সংঘটিত হয়েছিল এই অকল্পনীয় নৃশংসতা। তাঁর মনে হয়েছিল, ‘মায়ের সিঁথির সিঁদুরে আঁকা হলো সবুজের ললাটে রক্তিম জয়টীকা।’ তারপর থেকে তাঁর অনুসন্ধিৎসু মন খুঁজে ফিরেছে পেরুয়াসহ ভাটি অঞ্চলের গণহত্যার বৃত্তান্ত, যা রূপ পেয়েছে বর্তমান গ্রন্থে। হৃদয়-ছোঁয়া এইসব কাহিনি উত্তর-প্রজন্মের দৃষ্টিতে দেখা মুক্তিযুদ্ধের নিষ্ঠুর বাস্তবতা মেলে ধরে আমাদের সামনে। একান্ত অবলোকনে পারিবারিক, আঞ্চলিক ও চেনা পরিমÐলের এমন বয়ান কেবল অতীতের কথা নয়, এক পরম্পরারও পরিচয় বহন করে। এই গ্রন্থ তাই হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার মানবিক কাহিনি, স্মৃতির বহমানতার দলিল।