বিশ শতকি উপনিবেশলালিত আধুনিকতার তীব্রতার মধ্যেই জসীমউদ্দীন স্বতন্ত্র ধারার সূচনা করেছেন। হয়ে উঠেছেন দেশের অগণন জনমানুষের ভাষ্যকার। ঔপনিবেশিক শিক্ষা ও নন্দনচিন্তার ভেতরে বাস করেও জসীমউদ্দীন যেভাবে নিজের আলাদা নিশানা নির্ধারণ করলেন, তা আজও বিস্ময় জাগায়। আদতে তিনি বাংলা সাহিত্যের আদি বা মূলধারার প্রতিনিধি। কিন্তু পশ্চিমা আধুনিকতার চাপে তত দিনে ওই ধারা প্রান্তে গিয়ে ঠেকেছে। এটা জানা সত্ত্বেও জসীমউদ্দীন সে পথেই আরও দৃঢ়ভাবে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিলেন। এ তাঁর শৈল্পিক সততা ও দৃঢ় প্রত্যয়েরই পরিচয়। এই বইয়ে কুদরত-ই-হুদা সেই জসীমউদ্দীনকে পুনরাবিষ্কার করেছেন। তিনি জসীমউদ্দীনের জীবন ও মনের খোঁজ নিয়েছেন; বৃহত্তর পটভূমিতে স্থাপন করে দেখিয়েছেন বৈরী বাস্তবকে তোয়াক্কা না করে কীভাবে জসীমউদ্দীন অদ্বিতীয় হয়ে উঠলেন। গ্রন্থকার সহজ ও নির্ভার ভাষায় পর্বে পর্বে তুলে এনেছেন এক বিরল স্রষ্টার সৃষ্টি ও সাধনা। এভাবে উন্মোচিত হয়েছে উত্তর-আধুনিক ও উত্তর-ঔপনিবেশিক দৃষ্টিতে তাঁকে দেখার দরোজা। একই সঙ্গে, সুনীলকুমার মুখোপাধ্যায়ের অর্ধশতাব্দীরও বেশিকাল পরে, এটি জসীমউদ্দীনকে নিয়ে দ্বিতীয় পূর্ণতর ও একক কাজ।