বহুদূর থেকে যেন গুলির শব্দ ভেসে এল। আস্তে আস্তে মিনুর কানের কাছে চলে এল। বিকট শব্দ। চমকে চোখ মেলে মুখ তুলে তাকাল সে। দেখে একটা পিস্তল-ধরা হাত। গলায় ভয়াবহ চাপ। শ্বাস নিতে পারছে না। তার গলা টিপে ধরেছে সুমন। বহু চেষ্টা করেও ছোটতে পারল না মিনু। এরই মাঝে কানে এল রায়হান সাহেবের চিৎকার, ‘আজ তোকে ছাড়ব না আমি, শয়তান!’ ছটফট করছে মিনু। কিন্তু সাঁড়াশির মতো কঠিন আঙুলের চাপ থেকে মুক্ত করতে পারল না নিজেকে। চোখের সামনে পুরোপরি আঁধার নামার আগে শেষবারের মতো একটা গুলির শব্দ শুনতে পেল সে। দিগন্তে ঢলে পড়েছে চাঁদ। শেষ রাতের জ্যোৎস্নার আলো ফিকে হয়ে এসেছে। যাই যাই করেও যেতে চাইছে না। কোনোমতেই মায়া কাটাতে পারছে না যেন মাটির পৃথিবীর। বহু কষ্টে মৃত সুমনের সাঁড়াশি-আঙুল খুলে মিনুকে যখন বের করল রায়হান সাহেব, ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে অনেক। সুমনের মতোই নিথর হয়ে গেছে মিনু। নি®প্রাণ, স্তব্ধ। ঝরাপাতার মত ঝরে গেল কতগুলো প্রাণ।