নাসরীন মুস্তাফা এর লেখা ও আনন প্রকাশন প্রকাশনীর বই "জিয়নপাথর রহস্য | Buy this book at 120 BDT from বইসদাই - boisodai.com | Bangladesh | বইপোকা
আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই। সানি’র মা চোখ থেকে টপটপ করে গড়িয়ে পড়া কান্নাগুলো রুমাল দিয়ে মুছে আমার দিকে তাকিয়ে কথাগুলো আবারও বললেন। বারবার বললেন। সানির বাবা কখনোই কিছু বলেন না। ভারি চশমার আড়ালে ঢাকা চোখ দুটো টেবিলের দিকে রেখে দেন, কখনো চোখে চোখ রেখে কথা বলেছেন কি না মনে নেই। নেপালে এসেছি ছয় মাস হল। কাঠমা-ুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে চাকরি করি। দূতাবাসের কাছেই ছোট্ট এক টিলার উপর দোতলা যে বাড়িটাতে আমি থাকি, তার সামনে সবুজ লন। দোতলার জানালার পর্দা সরালেই দূরের পাহাড়ে সাদা বরফের টুপি দেখে নিজেকে রাজা মনে হয়। ছুটির দিনে আমি তো মহারাজা। টো টো করে ঘুরে বেড়াই। কাঠমান্ডুর বাজার থামেলেই তো আটকে আছি কত দিন ধরে। প্রতিটি গলিতে ইতিহাসের হাজারো উপকরণ, পুরনো বাড়িগুলোর এক একটা জানালার এক এক নকশা দেখি আর গালে হাত দিয়ে ভাবতে থাকি। ভাবতে ভাবতে খালি পেট নিয়ে বসি কোন নেপালি রেস্তোরায়। নেপালি থালিতে সাজানো খাবারের প্রকার দেখে ভুলে যাই কি করতে হবে। আমি আবারও ভাবতে বসি। এরকম ভাবতে ভাবতেই আলাপ হয়েছিল মিসেস দিলারা আর তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার মোসাদ্দেক শাখাওয়াতের সাথে। নেপালে ঘুরতে আসা বাংলাদেশিদের সাথে চোখাচোখি হলেই তো আলাপ জমে যায়। এমন কোন দিন নেই, এমন আলাপ জমে না। তবে, যেদিন এই বয়স্ক দম্পতির সাথে দেখা হল, কিছুতেই আলাপ জমলো না। আমি বলার কিছুই খুঁজে পেলাম না। যা বলার মিসেস দিলারাই বললেন। জানালেন, তার বুয়েট পড়–য়া ছেলে সানি বন্ধুর সাথে নেপালে ঘুরতে এসেছিল। এরপর হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে! তরতাজা এক তরুণ হারিয়ে গেছে! মিসেস দিলারা চোখ মুছে মাথা নাড়েন। আহা!