অনিরুদ্ধ আশির অরম্ভদ সময়ে যে সকল তরুণ কবিতাকে কালাতিক্রমের আয়ুধ মেনেছেন এজাজ ইউসুফী তাদের পুরোধা। আধুনিকতা ও উপনিবেশের দীর্ঘ ক্লান্তি ও বৈকল্য, অবসাদ ও ক্লেদের ছায়া পেরুনোর প্রত্যয় তাই জায়মান থাকে তার কবিতার শরীর জুড়ে। কখনো দার্শনিক উল্লেখের পরম্পরায় উদ্ভাসন ঘটে স্বপ্নভঙ্গের বেদনার কূটাভাস আবার লোক-অনুষঙ্গ ও প্রত্ন-প্রতীকের সমূহ বিস্তারে ধারিত হয় সমসাময়িকতার আশ্লেষ। ভাষার কুঠুরী ছেনে যে কাব্যিক ইমারত নির্মাণ করেন তার স্থাপত্য বিন্যাসের আপাত জটিল নন্দনে ছন্দের নিপুণ কারুকাজ যেমন দুর্লক্ষ্য নয় তেমনি কথনের স্পন্দনেও বাক্যেরা সমান সাবলীল-নরনারীর সর্বমানবিক প্রেম ও কামে, প্রত্যয় ও প্রণোদনায়-কখনো বা অধ্যাত্মবোধ ও বিন্যাসে। শব্দের প্রয়োগ-মুন্সিয়ানা তার অপরিচিতকরণের সম্ভাবনায় মূর্তিত হয় বিষয় ভাবনার সাজুয্যে। আবহমান বাংলার কী সর্বভারতীয় মিথ কাব্যিকতায় আকৃত করেন অবলীলায়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আত্মপরিচয়ের চিহ্ন। এই ক্ষণজন্ম! এই মরজীবনের অপরিমেয় যাপনের তাল অবিরাম ঠুকে চলেছেন জীবন মৃদঙ্গে। পুলক পাল কবি