রাজেন্দ্রপুর মোড় হয়ে কাপাসিয়া যাওয়ার পথটি আমার অন্যরকম ভালো লাগার একটি পথ। এর দুপাশের শালবন আর শান্ত পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা গ্রামের বাড়িঘর মনটাকে প্রকৃতির সাথে মিশিয়ে দেয়। আমি সারাক্ষণই গাড়ির কাচখোলা জানালা পথে তাকিয়ে থাকি। শীতলক্ষ্যা নদীর অপর পাড়ে তরগাঁও। নদীর ওপর ব্রিজ নির্মিত হওয়ায় আজ এক ঘণ্টায় তরগাঁও পেঁৗছে গেলাম। নদীর ওপারে কাপাসিয়ার প্রকৃতি যেন সৌন্দর্যের রানি। সেখানে গাছেরা সব আকাশের ঘন নীলের সাথে কথা বলে। পাখিরা গান গায় আপন মনে। প্রকৃতির এমন সুধাপানে যে কারো মন তরতাজা হবে নিমিষে। আমি আমার অফিসিয়াল কাজ শেষের একপর্যায়ে জানতে পারলামÑ তরগাঁওয়ের অদূরে দরদরিয়া গ্রামে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের জন্মস্থান। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি এখনও কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। আমি সে বাড়িটি দেখার অদম্য ইচ্ছা নিয়েই একরকম ছুটে গেলাম। বাড়িটি দেখে আমার এককালের প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি বলে মোটেও মনে হলো না। একটি দোতলা মাটির ঘর; যার দুপাশে টানা বারান্দা। এছাড়া অনুল্লেখ্য ছোটখাট দু—একটি ঘর রয়েছে। এর চেয়ে অনেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িও সুরম্য। দেশের প্রথিতযশা খ্যাতিমান মেধাবী রাজনীতিবিদ তাজউদ্দীনের প্রতি আমার মাথা নুইয়ে পড়ে। আমার মনের ভেতর গুমরে ওঠেÑ এই গুণী মানবকে আমরা কতই না অকালে হারিয়েছি! বাড়ির কেয়ারটেকারের সঙ্গে টুকটাক কথা হয়। আর তার সহায়তায় বাড়িটি ঘুরে দেখি। মনটা ভালো হয়ে যায় বাড়ির সামনের পুকুর ও নানা জাতের গাছগাছালির সম্মিলিত নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক শোভা দর্শনে আর সেইসাথে সুনসান নীরবতার মাঝে পাখিদের মনকাড়া কলতানে।