আবহমান বাংলার শাশ্বত মাতৃত্বের সকরুন চিত্র বিধৃত হয়েছে উপন্যাসটিতে। বিবাহ বিচ্ছেদের পর তালাক প্রাপ্তা এক অসহায় নারীর শিশু সন্তানকে বুকে নিয়ে প্রতিকূল জীবন পথ এগিয়ে যাওয়ার গল্প এটি। বিচ্ছেদ উত্তর স্বামী যখন দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভোগ বিলাসে মত্ত থাকে তখন চিরায়ত বাংলার এই মা কোমর বেঁধে নেমে পড়ে টিকে থাকার সংগ্রামে। সন্তানের মুখপানে চেয়ে সুখ, স্বপ্ন ও যৌবনকে বিসর্জন দেয়। দুশ্চিন্তায় অসুস্থ সন্তানের শিয়রে জেগে থেকে বহু নির্ঘুম রজনী পার করে। বহু অনাহার ক্লিষ্ট দিন অতিক্রম করে। সমাজের বহু অপমান, অপঘাত সহ্য করে। অতঃপর এক এক করে সাত বছর পেরিয়ে গেলে প্রাণের মাঝে প্রাণ হয়ে মিশে থাকা সেই সন্তানকে জন্মদাতা পিতার কাছে অর্পণ করতেই যত ব্যথা এই মায়ের। কিন্তু এটি যে দেশের আইন। আইনের বলে পিতা তার সন্তানকে নিয়ে যায়। তাই দূঃখিনী মায়ের কান্নার যেন শেষ হয় না।