নাতিদীর্ঘ জীবৎকালের পরিসরে সৃষ্ট জিবরানের সাহিত্যকৃতি ও চিত্রকর্মের আড়ালে রক্ত-মাংসের আসল মানুষটিকে খুঁজতে হলে, তার লালিত স্বপ্নের উদয়-বিলয়, আশা-নৈরাশ্য, অর্জন-বিসর্জনের অন্তরালে থাকা মানুষটির আন্তরসত্তার নাগাল পেতে হলে যে মাটির গভীরে তার শিকড় প্রোথিত, সেই মৃত্তিকার অন্ধকার গর্ভে সহস্রবর্ষ সঞ্চিত যে প্রাণরসে তার অন্তর্গত সত্তার লালন, যে উন্মুক্ত আকাশের নিচে তার অবাধ বিস্তার, সেসবের সন্ধান নেওয়া একান্ত অপরিহার্য। কারণ তার স্বদেশের কয়েক সহস্রাব্দের ইতিহাস, পুরাণ কথা, সেখানকার ভূমিপুত্রদের ধ্যান-ধারণা, তাদের আনন্দ-বিষাদ কখনো প্রত্যক্ষে, কখনো পরোক্ষে তার সমগ্র সাহিত্যকৃতিতে ও চিত্রসৃজনে বারংবার ছায়া ফেলে গেছে। সেসব অনুষঙ্গ ব্যতীত জিবরানের স্বরূপসত্তার খোঁজ পাওয়া কঠিন। বক্ষ্যমাণগ্রন্থে লেখক আন্তরিকভাবে সেই খোঁজে বেরিয়েছেন এবং অভীপ্সু পাঠককে সেই যাত্রাপথের সঙ্গী করতে চেয়েছেন।